শনি. জানু ২২, ২০২২

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরা
নাসা নিউজ২৪

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কৈখালীতে পানির জন্য সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন স্থানীয়রা।

চারপাশে সুবিশাল জলরাশি সত্ত্বেও পানের উপযোগী একটু পানির জন্য রীতিমতো হাহাকার চলছে।খাওয়ার উপযোগী পানির অভাব পূরণে দূর-দূরান্তে ছুটে বেড়ানোর পাশা পাশি অনেকে আবার পুকুরের কাদা মিশ্রিত ও লবণযুক্ত পানিও পান করতে বাধ্য হচ্ছেন।এ চিত্র দক্ষিন পশ্চিম উপকূলীয় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার।সরেজমিনে ঘুরে ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,প্রাকৃতিক উত্সগুলো শুকিয়ে যাওয়া,সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গড়ে ওঠা জলাধারগুলো চাহিদা পূরণে সক্ষম না হওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

শ্যামনগরের কৈখালী এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, জয়াখালী গ্রামে সরকারি ভাবে খাবার পানির জন্য একটি পুকুর খনন করা আছে।কিন্তু পুকুরটি প্রভাবশালীরা দখল করে মাছ চাষ করছে।এছাড়া পুকুর থেকে পানি সংগ্রহের জন্য পাড়ে স্থাপিত পিএসএফের (পন্ড স্যান্ড ফিল্টার)পাইপ উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।পুকুর মালিক অমল প্রামাণ্য বলেন,পুকুর থেকে বিভিন্ন জায়গার মানুষ পানি নিয়ে যাচ্ছে। এতে পুকুর শুকিয়ে যেতে পারে। সেজন্য তিনি কাউকে পানি দিতে চাচ্ছেন না।

একই এলাকার বাসিন্দা আক্তার হোসেন বলেন, এক কলস পানির জন্য মানুষ তিন-চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছে।তারা তিন-চার কিলোমিটার দূর থেকে এসে জয়াখালী মোড় সংলগ্ন আকিজ কোম্পানির তৈরি পানির ফিল্টার থেকে পানি নিচ্ছেন।এ অবস্থা শুধু কৈখালী ইউনিয়নে নয়,পার্শ্ববর্তী রমজান নগর,ঈশ্বরীপুর,বুড়ি গোয়ালিনী,গাবুরা,পদ্ম পুকুর সহ গোটা উপকূলে একই অবস্থা। শ্যামনগর সদরের আজিজুর রহমান,বুড়ি গোয়ালিনীর আব্দুল হালিম,মুন্সীগঞ্জের বেলাল হোসেন, পীযূষ বাউয়ালিয়া সহ অনেকেই একই কথা জানান।স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা লির্ডাসের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার বিশ্বাস বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।তাদের পক্ষ থেকে সুপেয় পানিসংকট নিরসনে কাজ করা হচ্ছে।তিনি উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার জন্য জেলা পরিষদের পুকুরগুলোর ইজারা বাতিল করে তা সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।

স্থানীয় কলেজ শিক্ষক দেবদাস সরকার বলেন,সুপার সাইক্লোন আম্ফানে উপকূলের বেড়িবাঁধ ভেঙে সর্বত্র নোনা পানি ঢুকে পড়ে।বাড়ি ঘর,ফসলি জমি,মাছের ঘের ভেসে যায়।সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এ এলাকার একমাত্র পানির উত্স পানির আঁধারগুলো।এ মুহূর্তে সরকারের পক্ষ থেকে পানির ব্যবস্থা না করলে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।এদিকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার বলেন,বুড়ি গোয়ালিনী এলাকায় খাবার পানির সংকট নিরসনে সেখানে একটি অসমোসিস পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে।তবে অন্যান্য জায়গায় সুপেয় পানির সংকট নিরসনে তিনি উপজেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *