শুক্র. মে ২০, ২০২২

মোঃ জাকির হোসেন।

আমরা বীর বাঙালী আমরা নির্ভয়ে এগিয়ে চলি।আমরা মানিনা কারো কাছে হার।আমরা রক্ত দিতে জানি।আমরা ধারিনাকো কারো ধার।আমরা মৃত্যুকে করিনা ভয়।আমরা মানিনা পরাজয়।এমন আরও অনেক কথা আমরা বলে থাকি অহরহ।আসলে এ কথার যতার্থতা কতটুকু আসুন আমরা একটু ভেবে দেখি।আমরা মুখে অনেক কথা বলে থাকি, কিন্তু তাঁর বাস্তবতা আছে কতটুুকু তা কি আমরা ভেবে দেখিছি একবারও? আমরা বীরের জাতি হলে ও একটি জায়গায় কিন্তু একেবারে দুর্বল।সেখানে কোন বীরত্ব কাজে আসেনা। আর সেটা হলো শহরের যানজট কিংবা সড়ক /মহাসড়কে দুর্ঘটনা।যে কোন বুদ্ধিমত্বা কিংবা যে কোন পরিকল্পনা সব কিছু যেন অসহায় ভাবে হার মানছে যানজটের কাছে।

কিন্তু কেন এই হার মানা?তবে কি
কোন উপায় নেই এর থেকে বেরিয়ে আসার?একটা কথা আছে যে যত মুসকিল তত আছান।মানুষের অসাধ্য কিছু নেই।তবে গায়ের জোরে কিন্তু সব কিছু করা সম্ভব নয়।হাতি আকারে অনেক বড়ো। শক্তিতেও অন্য প্রাণীর চাইতে অনেক বেশি। কিন্ত শিয়ালকে পন্ডিত বলা হয়।কারন শিয়াল আকারে ছোট হলেও তার বুদ্ধিমত্বা সকল প্রাণীকে হার মানায়। শুধু শরীর মোটা তাজা হলেই পাহাড়ে ধস নামনো যায়না।পাহাড়ে ধস নামাতে হলে চাই সু বুদ্ধি, সু কৌশল এবং সু পরিকল্পনা। একটু বুদ্ধি খাটালে মানুষ অনেক কিছু পারে।সেটা সু বুদ্ধি হোক আর কু বুদ্ধি হোক।সু বুদ্ধিতে মঙ্গল আর কু বুদ্ধিতে অমঙ্গল। তাই যানজট থেকে মুক্তি পেতে হলে চাই সু বুদ্ধির পরিকল্পনা। আর এর জন্য অনেক ক্ষেত্রে আমাদের বিসর্জন দিতে হবে ব্যাক্তিগত সার্থকে।ত্যাগ করতে হবে দেশ ও দেশের জনগনের ক্ষতি হয় এমন সিদ্ধান্তকে।বিশেষ করে আমাদের শহরকে যানজট মুক্ত করতে হলে আইন প্রনয়নের সাথে সাথে কঠোর হতে হবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে।

সড়কের আইন অমান্য কারি যে ই হোকনা কেন তাকে কোন রকম ছাড় দেওয়া যাবেনা।সড়কের নিয়ম কানুন মেনে চলতে বাধ্য করতে হবে গাড়ির স্টাফ কিংবা পথচারীদেরকেও। রাস্তা পারাপারে নির্দৃিষ্ট স্থান অর্থাৎ ওভার ব্রীজ,আন্ডারপাস কিংবা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারে বাধ্যতা থাকতে হবে।যত্রতত্র পার্কিং কিংবা যত্রতত্র যাত্রী উঠানো নামানো থেকে ও বিরত থাকতে হবে গাড়ি চালকদের।শুধু গাড়ির চালকদেরই সচেতন হলে চলবেনা। সচেতন হতে হবে যাত্রী সাধারণকেও।তবেই অনেকটা কমে আসবে যানজট কিংবা সড়কে দুর্ঘটনা।ফিরে আসবে সড়কের শৃঙ্খলাও।আর সবাইকে সচেতন করার জন্য রাস্তার দু পাশে দিতে হবে বিভিন্ন নিয়ম কিংবা ট্রাফিক আইন সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন। সেই সাথে শহরের প্রতিটি সিগনাল লাইট গুলো হতে হবে সয়ংক্রীয়।

কারন সয়ংক্রীয় সিগনাল লাইটে নির্দিষ্ট একটি সময় নির্ধারিত থাকে।তাতে করে চতুর্দিকের গাড়ি গুলো একটি নির্ধারিত সময়ের পর পার হতে পারে সিগনালের পথটুকু।তাতেও অনেকটা লাগব হতে পারে যানজটের। কিন্ত দেখা যায় রাস্তার মোড়ে অথবা সিগনালে ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারায় সিগনালে থামছে গাড়ি।আর এই থামা গাড়ি গুলো কখন যে সিগনাল পার হতে পারবে সেটা একমাত্র উপর ওয়ালাই জানেন।দেখা যায় একদিকের গাড়ি আটকে রেখে অন্য দিকের গাড়ি ছেড়ে দিয়ে নিস্চিন্তে দাঁড়িয়ে আছে ট্রাফিক পুলিশ। কখনো কখনো কোন সিগনালে কুড়ি থেকে চল্লিশ মিনিট আটকে রাখে গাড়ি।তাতে আকটা পড়ে শত শত গাড়ি।ট্রাফিক পুলিশের এই উদাসীনতার কারনেও সৃষ্টি হয় যানজটের।আর এই যানজট কিংবা দুর্ঘটনার কারনে বিরাট আকারে ক্ষতি হচ্ছে দেশের অর্থনীতির। রাস্তায় অকারনে বসে বসে পুড়ছে জালানী।

গাড়ি চালকদের নষ্ট হচ্ছ শরীরের এ্যানার্জি। নষ্ট হচ্ছে মুল্যবান সময়। ঠিকমত গন্তব্যে পৌছাতে পারছেনা নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল। আর যানজটে রাস্তায় বসে থেকে সময় নষ্ট হওয়ার কারনে একটু সুযোগ পেলেই গাড়ি চালক গন তাড়াহুড়া করে গাড়ি চালাতে গিয়ে অনেক সময় ঘটে মারত্বক দুর্ঘটনা। তাই যানজটও হয় অনেক সময দুর্ঘটনার কারন। যানজট ও দুর্ঘটনা একে অপরের সাথে সম্পর্কীত। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে চাই যানজট মুক্ত সড়ক/মহাসড়ক। শহরের রাস্তায় নিরাপদে গাড়ি চালাতে পথচারীদেরকে অবশ্যই ফুটপাত ব্যবহার করতে হবে।আর সে জন্য অবশ্যই ফুটপাত দখল মুক্ত থাকতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। চাঁদাবাজ কিংবা দখলদার মুক্ত যদি হয় ফুটপাত, তবে উজ্জ্বল হবে অন্ধকার রাত।আমাদের দেশে যানবাহন নিযন্ত্রণ করার জন্য আছে বি আর টি এ নামক একটি সরকারি সংস্থা।

আর সরকারের এই সংস্থা যানজট কিংবা সড়ক মহাসড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে গ্রহন করেছে নানামুখী পদক্ষেপ।করেছে বিভিন্ন আইন প্রনয়ন।কিন্তু কোন কিছুই সঠিক ভাবে দেখেনা আলোর মুখ। কারন আকাশটা যে মেঘাচ্ছন্ন থাকছে প্রতিনিয়ত।ফুল গুলোও ঝরে পড়ছে মুকুলে। আমরা জানি শরিষা দিয়ে ভূত ছাড়ানো যায় সেই শরিষা যদি ভূতে পায় তখন কি উপায়। শরিষায় ভূত থাতলে কোন তান্ত্রীক কিংবা কোন তন্ত্র মন্ত্রই কাজে আসেনা।অনেক দিন ধরে বিভিন্ন বড় শহর গুলোতে চলছে উন্নয়ন মুলক কর্মযজ্ঞ।তাতে অনেকটা সংকীর্ণ হয়ে গেছে রাস্তার প্রশস্ততা। যানজটের এটাও একটি বিরাট কারন।তবে যানজট নিরসনে এগিয়ে আসতে হবে সকল সচেতন নাগরিকদের।কমাতে হবে প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যা সেই সঙ্গে বাড়াতে হবে গণ পরিবহন।

দেখা যায় বিশেষ করে রাজধানীতে গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিত ভাবে স্কুল কলেজে। আর এসব স্কুল কলেজে যাতায়াতের জন্য অধিকাংশ সময় ব্যবহার হয় প্রাইভেট গাড়ি।আর দেখা যায় এই গাড়িতে মাত্র একজন শিক্ষার্থী যাতায়াত করছে।রাস্তায় একটি বাস যে জায়গা দখল করে, তার সমান জায়গা দখল করে দুটি প্রইভেট গাড়ি। দুটি প্রাইভেট গাড়িতে সর্বোচ্চ যাতায়াত করতে পারে আট জন অথচ একটি বাসে যাতায়াত করতে পারে চল্লিশ থেকে পন্বাশ জন।এখন হিসাবটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় একটু ভেবে দেখার বিষয়।আমাদের দেশের মানুষ অনেকটা শান্তি প্রিয়।সেটা আবার সবার জন্য নয়।কিছু কিছু মানুষ শুধু নিজেকেই মানুষ মনে করে।তাই নিজেদের আরাম আয়েসের জন্য কিংবা নিজদের সার্থের জন্য দেশ কিংবা দেশের মানুষ যদি শেষ ও হয়ে যায় তাতে ওনাদের কিছু যায় আসেনা।এমনও দেখা যায় একটি পরিবারে যে কয়জন সদস্য আছে তার চেয়েও প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যা বেশি।

একবারও কি ভেবে দেখেছেন এই গাড়ি গুলো মনের আনন্দে যদি একসঙ্গে রাস্তায় বের হয় তবে রাস্তার অবস্থা কি হবে একবার ভাবুনতো?যানজট কমাতে হলে শুধু সরকার নয় এগিয়ে আসতে হবে সকল সচেতন নাগরিকদেরও।শুধু আইন প্রনয়ণ কিংবা ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যজিস্টেট দারা জেল জরিমানা করলেই ফিরে আসবেনা সড়কের শৃঙ্খলা। এব্যাপারে আন্তরিকতা থাকতে হবে দেশের প্রতিটি মানুষের। মনে রাখতে হবে ফিটনেস বিহীন গাড়ি ও লাইসেন্স বিহীন চালক দুটোই যানজট কিংবা দুর্ঘটনার কারণ। তাই কোন গাড়ির মালিক গন যেন অপ্রাপ্ত বয়সী কারো হাতে গাড়ির চাবি না দেই। ফিটনেস বিহীন গাড়ি রাস্তায় চালানো থেকে বিরত থাকি। আসুন আমরা দেশকে ভালোবাসি। ভালোবাসি দেশের মানুষকেও।তবেই আমরা পৌঁছাতে পারবো আমাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে।ফিরে পাবো যানজট মুক্ত পরিচ্ছন্ন শহর। ফিরে পাবো সোনার বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.