বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমানের সরকারি বাসভবনে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার রাতে উপজেলা চত্বর থেকে ‘রাজনৈতিক দলের নেতার শুভেচ্ছা ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে’ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের সঙ্গে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। নগরজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইউএনও নিজে বাদী হয়ে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে হুকুমের আসামি করে একটি মামলা করেছেন। এ ছাড়া পুলিশও একটি মামলা করেছে। এ ঘটনায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হচ্ছে প্রশাসনের ভেতরে।

হামলায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, নেত্রীর নির্দেশে কাজ করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, এটা আওয়ামী লীগ, এটা বিএনপি নয়। নিজেদের দলের কেউ অপরাধ করলে শাস্তি দেওয়ার দৃষ্টান্ত বিএনপিতে নেই। আওয়ামী লীগ আমলে শেখ হাসিনা এমন ভূরি ভূরি দৃষ্টান্ত দিয়েছেন। আপন লোকদের শাস্তি দিয়ে জেলে পাঠিয়ে প্রমাণ দিয়েছেন। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দোষী ও প্ররোচনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে জেলা ও নগর আওয়ামী লীগের নেতারা গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, শোকের মাসে পরিকল্পিতভাবে একটি শহরকে অশান্ত করতে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ইউএনওর বাসায় কেউ হামলা করেনি, এটি পরিকল্পিত ঘটনা। এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া দরকার।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত : বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২০ থেকে ২৫ জন কর্মচারী নগরের সিঅ্যান্ডবি রোডে উপজেলা পরিষদ কম্পাউন্ডে ঢুকে রাজনৈতিক দলের নেতার শুভেচ্ছা ব্যানার অপসারণের কাজ শুরু করেন। এ সময় ইউএনওর কার্যালয় ও সরকারি বাসভবনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা তাঁদের পরিচয় জানতে চান। এরপর তাঁরা সকালে এসে কাজ করার জন্য বলেন। এ সময় সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের সঙ্গে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের বাগবিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হাসান আহমেদ ওরফে বাবুর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের জেলা কমিটির সহসভাপতি আতিকুল্লাহ খান মুনিম, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব খান, সাজ্জাদ সেরনিয়াবাতসহ শতাধিক নেতাকর্মী সেখানে যান। পরে সেখানে আনসার সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা ইউএনওর বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এক পর্যায়ে আনসার সদস্যরা গুলি ছোড়েন।

ঘটনার পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ইউএনওর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর তাঁরা পুলিশের ওপরও চড়াও হন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়। করা হয় লাঠিপেটা। সংঘর্ষে আবু বকর ও শরিফুল নামের দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ইউএনওর সরকারি বাসভবনে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্য ফারুক হোসেন ও নাসির উদ্দিন নামের দুজন আহত হয়েছেন। তাঁদের সবাইকে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার রাতের ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল ভোর থেকে বরিশালের অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বরিশাল থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বাস চলাচল শুরু হয়।

স্থানীয় প্রশাসন যা বলছে : ইউএনও মুনিবুর রহমান বলেন, ‘১০ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে করে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব আমার কম্পাউন্ডে ঢুকে ব্যানার ছিঁড়তে থাকে। তাদের বারণ করা হলে তারা আমাকে ঘিরে ধরে। এ সময় আমার সেফটির জন্য আনসার সদস্যরা যেটা প্রয়োজন সেটা করেছে। ঘরে আমার বৃদ্ধ মা-বাবা করোনা আক্রান্ত। এর মধ্যে এমন ঘটনায় আমি আতঙ্কিত।’

জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, ‘ব্যানার অপসারণ করতে হলে সেটা আমাদের আগে জানাতে পারত। এখন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এনামুল হক বলেন, কিছু লোকজন সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে রাতে ব্যানার খুলতে আসে। ইউএনও সাহেব তাদের সকালে আসতে বলেন। কিন্তু তা না করে ইউএনও সাহেবের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে তারা। পরে তার বাসায় হামলার চেষ্টা করলে আনসার সদস্যরা গুলি ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে। কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বললেন, পদত্যাগ ছাড়া উপায় নেই : সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদিক আবদুল্লাহ বুধবার রাতে বলেন, ‘শত শত লোক আহত হয়েছে। এমন হলে আমি কিভাবে কী করব? আমাকে এমনভাবে কেন টার্গেট করা হচ্ছে? আমাকে কেন কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না? এগুলো আমার প্রশ্ন নয়, নগরবাসীর প্রশ্ন।’ তিনি বলেন, ‘বরিশালে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে প্রশাসনের লোকজন, তাতে আমার পদত্যাগ ছাড়া উপায় নেই। আমাকে তারা কাজ করতে দিচ্ছে না। কার ইশারায় এমনটা করছে তারা? আমার কাজে মনোনিবেশ করতে পারছি না উনাদের কারণে। উনারা সব প্যাকড হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছেন।’

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের রেগুলার কাজ। সেই অনুযায়ী আমার করপোরেশনের কর্মীরা রাতে উপজেলার পরিষদ চত্বরে বিভিন্ন ব্যানার অপসারণে যায়। এ সময় ইউএনও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের লোকজনের ওপর গুলি চালায়। এতে আমার প্রশাসনিক কর্মকর্তাও আহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয় আরও অনেকে। খবর শোনার পর আমি আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের ঘটনাস্থলে পাঠাই বিষয়টি সম্পর্কে জানার জন্য। তবে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদেরও গালাগাল করে ইউএনও। পরবর্তী সময়ে আমি ঘটনাস্থলে গেলে আমার ওপরও গুলি চালানো হয়। আমার শরীরেও গুলি লাগে। এর পরই আমার লোকজন আমাকে ঘিরে রাখে। আমার মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহামুদ বাবুকেও আটকে রাখে।’

মেয়র বলেন, ‘আসলে আমি কষ্ট পেয়ে লজ্জায় সেখান থেকে বাসায় চলে আসি। প্যানেল মেয়রদের রেখে আসি, যাতে সেখানে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। পরে শুনি, পুলিশ গিয়ে আমার নেতা-কর্মীদের এলোপাতাড়ি মারধর করেছে।’

দুই মামলা, ১২ নেতাকর্মী আটক : ইউএনও ও পুলিশ বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় দুটি মামলা করেছেন। ইউএনও বাদী হয়ে করা মামলায় সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে হুমকের আসামি এবং ৩০-৪০ জনের নাম উল্লেখসহ কয়েক শ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’ আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ ওরফে বাবু, ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে ফিরোজ, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি অলিউল্লাহ অলি।

গতকাল সকাল ১১টার দিকে নগরের কালীবাড়ি সড়কে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বাড়ির সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য অবস্থান নেন। এ সময় মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বাড়িতে ছিলেন। সেখানে ছিলেন জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরা। তবে সেখান থেকে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ সদস্যরা চলে গেলেও র‌্যাবের একটি দল সেখানে অবস্থান করছিল।

বিজিবি মোতায়েন : নগরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ, র‌্যাবের টহল জোরদারের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান, নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বিজিবি ও অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট চাওয়া হয়। এরই মধ্যে খুলনা থেকে ১০ প্লাটুন বিজিবির সদস্য বরিশালের পথে রয়েছেন। রাতে তাঁরা বরিশালে পৌঁছবেন। বিজিবির সঙ্গে সার্বক্ষণিক থাকবেন ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ জন্য বরিশালের বাইরের জেলা থেকে ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট চাওয়া হয়েছে। আটজন চলে এসেছেন। বাকিরাও আসবেন।

রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ইউএনওর বাসায় হামলা : বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দ্বন্দ্বের সূত্রপাত সিটি নির্বাচনের মনোনয়নকে ঘিরে। সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ মনোনয়ন দৌড়ে জিতে যান। হেরে যান কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিপুল ভোটে জাহিদ ফারুক শামীম বিজয়ী হন। একাধিকবার নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার তাঁর কাছে হেরে যান। সেই নির্বাচনে সাদিক আবদুল্লাহ ছিলেন জাহিদ ফারুকের সঙ্গে। প্রকাশ্যে ভোট চেয়েছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সাদিক ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু জাহিদ ফারুক শামীম যখন প্রতিমন্ত্রী হলেন, তখন দুজনের মধ্যে আবার বিরোধ দেখা দেয়।

সেই বিরোধের জের ধরেই বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমানের সরকারি বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্র বলছে। দলীয় শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলছেন, সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের পাঁচজন কাউন্সিলর পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের সঙ্গে বৈঠক করেন। এমনকি তাঁরা জাহিদ ফারুক শামীমের দেওয়া ত্রাণ নিজ নিজ ওয়ার্ডে দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করেন। এ নিয়ে সিটি মেয়র তাঁদের ওপর ক্ষুব্ধ হন। এমনকি সিটি মেয়র ওই কাউন্সিলরদের কার্যালয়ে থাকা সিটি করপোরেশনের স্টাফদের সরিয়ে নিজ কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। মূলত এসব কারণে দুই নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে।

‘স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের শিকার প্রশাসন হবে কেন’ : ইউএনওর বাসভবনে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনার প্রেক্ষাপটে গতকাল রাতে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জরুরি বৈঠক করেছে। ওই বৈঠকে এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে বরিশালের ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—আইনের মাধ্যমেই দুর্বৃত্তদের মোকাবেলা করা হবে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

হামলার ঘটনায় সচিবালয়ের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তাসহ মাঠ প্রশাসনের কয়েকজন ডিসি ও ইউএনওর সঙ্গে কথা হয়েছে কালের কণ্ঠ’র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ইউএনও বলেন, ‘স্থানীয় রাজনৈতিক চাপে কাজ করতে নানা সমস্যা হয়। তার ওপর রাজনীতিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ঝালও যদি আমাদের ওপর মেটানোর পরিকল্পনা হয়, তাহলে আমরা যাব কোথায়? মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

বরিশালের সদর আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় মেয়রের অবস্থানগত দ্বন্দ্ব আগে থেকেই চলছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংসদ সদস্য প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোতে প্রতিমন্ত্রীকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্থানীয় মেয়র এতে জেলা প্রশাসনের প্রতি ক্ষুব্ধ। এ ছাড়া টিকাসংক্রান্ত একটি ঘটনার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের মৃদু দ্বন্দ্ব ছিল। এ কারণে প্রশাসনের ওপর থাকা ক্ষোভের একটা বহিঃপ্রকাশ ইউএনওর ওপর দিয়ে হতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন।

জানতে চাইলে বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বরং মেয়রকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উনি সেই গুরুত্বের সম্মান করতে জানেননি।’ তিনি আরো বলেন, ‘উনার কাউন্সিলরদের মধ্য থেকে কয়েকজন তাঁর পক্ষ ত্যাগ করেছেন। আরো অনেকে তাঁর পক্ষ ত্যাগ করবেন বলে জানতে পেরেছেন। এ কারণে তিনি শোডাউন করে ভীতির প্রভাব তৈরি করতে চেয়েছেন। এ কারণে ১৫ই আগস্ট উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রীর ব্যানার-পোস্টার ছেঁড়ার মাধ্যমে সেটা দেখাতে চেয়েছেন।’

জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, ‘এটা পরিকল্পিত হামলা। রাতে পরিকল্পনা ছাড়া হাজার হাজার লোক জড়ো হয় কিভাবে?’