শুক্র. মে ২০, ২০২২

অনলাইন ডেস্ক,
নাসা নিউজ২৪।

আসামি জয় খন্দকার।

আবারও সুদক্ষতার পরিচয় দিয়ে সুকৌশলে গাইবান্ধা থেকে অপহৃতা এসএসসি পরীক্ষার্থী অনন্যা রানী মহন্ত (১৬) ও অপহরণকারী মূল আসামি জয় খন্দকার (১৯) কে গ্রেফতার করেছে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সুদক্ষ ইনচার্জ সেরাজুল হক।মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায় গত ২৯/১১/২১ইং গাইবান্ধা শহরের পৌরপার্ক সংলগ্ন ন্যাশনাল ব্যাংকের সামনে থেকে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে অনন্যা রানী মহন্তকে মাইক্রোবাস যোগে অপহরণ করে নিয়ে যায় জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইসবপুর গ্রামের জুয়েল খন্দকারের ছেলে জয় খন্দকার।এ ঘটনার পর অপহৃতার মা কনিকা রাণী মহন্ত গাইবান্ধা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় একটি অপহরণ মামলা করেন। যাহার নম্বর-৩৪।তারিখ ২২/২/২২ইং।

অপহরণ মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকে অপহৃতা এসএসসি পরীক্ষার্থী ও মূল আসামিকে গ্রেফতার করতে মাঠে নামে পুলিশ।এরই ধারাবাহিকতায় রংপুর বিভাগের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য ও গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলামের নির্দেশনায় অপহরণের মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করেন জেলার চৌকস ও সুদক্ষ ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ইনচার্জ সেরাজুল হক।ছায়া তদন্তের শুরুতে মামলার অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অপহরণকারীর মোবাইল নাম্বার কোথায় অবস্থান করছেন এসব তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহের চেষ্টা করে ব্যার্থ হন। পরবর্তীতে সুদক্ষ ও চৌকস এই পুলিশ অফিসার সেরাজুল হক দমে না গিয়ে মেধা ও দায়িত্ব প্রতি পালনের জায়গা থেকে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অপহরণকারী মূল আসামি জয় খন্দকারের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান।রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করার পর ম্যাসেঞ্জারে গত ১ সপ্তাহ থেকে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করেন।

বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে সুকৌশলে ঢাকা থেকে অপহরণকারী জয় খন্দকার ও অপহৃতা এসএসসি পরীক্ষার্থী অনন্যা রানী মহন্তকে সাদুল্লাপুর থানার ধাপেরহাটে আসতে বলেন। সেই কথা অনুযায়ী অপহরণকারী আসামি জয় খন্দকার ও অপহৃতা অনন্যা রানী মহন্তকে নিয়ে গতকাল সোমবার বিকেলে ঢাকা থেকে স্কানিয়া নাবিলের এসি বাসে রওনা দিয়ে রাত্রি ১১টায় ধাপেরহাট এসে পৌঁছেন।ধাপেরহাট বন্দরে পৌছার পর জয় খন্দকার ও অপহৃতা হিন্দু অনন্যাকে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য আবারও মেধাকে কাজে লাগিয়ে সুকৌশলে সিএনজি যোগে পার্শ্ববর্তী পলাশবাড়ী উপজেলার শিল্পী হোটেলে নিয়ে আসেন।

সেখানে আসামি ও অপহৃতাকে খাওয়া-দাওয়া সময় পলাশবাড়ী থানার তদন্ত কর্মকর্তা রুপ কুমার সরকারকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং তাৎক্ষণিক রুপ কুমার সরকার পুলিশ ফোর্স নিয়ে শিল্পী হোটেলে এসে পৌঁছেন। পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্মকতাসহ গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মাসুদার রহমান’কে জানানো হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নয়ন কুমার দাশ সঙ্গীয় নারী পুলিশ সদস্য সহ শিল্পী হোটেলে এসে উপস্থিত হন। এসময় মামলার ছায়া তদন্তকারী সুদক্ষ ও চৌকস ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ইনচার্জ সেরাজুল হক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নয়ন কুমার দাশের নিকট অপহরণকারী জয় খন্দকার ও উদ্ধারকৃত অপহৃতা অনন্যা রানী মহন্তকে রাত্রি ২টায় হস্তান্তর করেন।ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ইনচার্জ সেরাজুল হক জানান এটি গাইবান্ধা সদর থানার অপরহরণের মামলা।আমি ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য ও জেলা পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম স্যারের নির্দেশনায় আমি ছায়া তদন্ত শুরু করি।

এরই ধারাবাহিকতায় আসামি জয় খন্দকারের সঙ্গে ম্যাসেঞ্জারে কথা বলে ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে ঢাকা থেকে সুকৌশলে নিয়ে এসে গ্রেফতার করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করেছি।উল্লেখ্য ইতিমধ্যে এই কর্মকর্তা পুলিশ জনগণের বন্ধু এই স্লোগানে সাধারণ মানুষের কাছে হয়ে উঠেছেন আস্থার ও বিশ্বাসের প্রতীক।সেই সঙ্গে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পেয়েছেন কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন পুরস্কারও।একজন দক্ষতা সম্পন্ন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি প্রতিনিয়ত অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছেন হত্যা মামলার আসামী,ডাকাত,অপহৃত ভিকটীম,পেশাদার চোর, ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী। উদঘাটন করেছেন ক্লুলেস মামলার রহস্য, রাত-দিন পরিশ্রম করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও থানা থেকে গ্রেফতার করেছেন আন্তজেলা ডাকাত সহ চোর,তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহৃত স্কুল ছাত্রী সহ ছিনতাইকৃত চিনি ও ট্রাক উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.