বৃহঃ. জানু ২৭, ২০২২

অনলাইন ডেস্কঃ
নাসা নিউজ২৪

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে গতকাল কুয়ালালামপুরে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ও মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী।

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।গতকাল মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় এ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন দুই দেশের মন্ত্রীরা।ফলে তিন বছর অপেক্ষার পর বাংলাদেশিদের জন্য আবার খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের প্রবেশপথ।এখন এই সমঝোতা স্মারকের পর প্রয়োজনীয় স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং সিস্টেম বা এসওপি নির্ধারণ করা হবে।আশা করা হচ্ছে,আগামী এক মাসের মধ্যে প্রথম ব্যাচের কর্মীরা মালয়েশিয়া যাওয়া শুরু করতে পারবেন।সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এবং মালয়েশিয়া সরকারের মানব সম্পদ মন্ত্রী দাতুক সেরি এম সারাভানান।এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড.আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, হাইকমিশনার মোঃ গোলাম সারোয়ার এবং মালয়েশিয়ার মানব সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল দাতু মুহাম্মদ খাইর আজমান বিন মোহামেদ আনুয়ার,বিএমইটির মহাপরিচালক মো. শহীদুল আলমসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়া প্রান্তের সব খরচ নিয়োগকর্তা বহন করবেন।

যেমন রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি নিয়োগ, মালয়েশিয়ায় আনয়ন,আবাসন, কর্মে নিয়োগ এবং কর্মীর নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর খরচ নিয়োগকর্তা বহন করবেন। নিয়োগ কর্তা নিজ খরচে মালয়েশিয়ান রিক্রুটিং এজেন্ট নিযুক্ত করতে পারবেন। মালয়েশিয়ায় আসার পর বাংলাদেশি কর্মীর ইমিগ্রেশন ফি, ভিসা ফি,স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ, ইনস্যুরেন্স সংক্রান্ত খরচ,করোনা পরীক্ষার খরচ, কোয়ারেন্টাইন সংক্রান্ত খরচসহ সব ব্যয় মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা/কোম্পানি বহন করবেন।নিয়োগকর্তা কর্মীর মানসম্মত আবাসন, বীমা, চিকিৎসা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করবে।ফলে আশা করা যায় কর্মীর অভিবাসন খরচ অনেক কমে যাবে। এ ছাড়া প্রত্যেক কর্মীকে মালয়েশিয়ার এমপ্লয়িজ সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের আওতায় কর্মকালীন দুর্ঘটনা বা কাজের কারণে শারীরিক সমস্যা হলে চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণ পাবে। ফলে কর্মী ফ্রি চিকিৎসা সুবিধা, অস্থায়ী অক্ষমতার সুবিধা, স্থায়ী অক্ষমতার সুবিধা, নিরবচ্ছিন্ন উপস্থিতি ভাতা,ডিপেন্ডেন্ট বেনিফিট,পুনর্বাসন সুবিধাসহ মালয়েশিয়ার আইনানুযায়ী প্রাপ্য সুবিধাদি পাবেন। এই সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী বাংলাদেশ কর্তৃক প্রেরিত বৈধ রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি সমূহের তালিকা থেকে নিয়োগকারী মালয়েশীয় সরকারের বিধি অনুযায়ী বাংলাদেশি এজেন্ট বেছে নেবেন। এ বিষয়ে মালয়েশীয় সরকার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে বলে সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ আছে।

ঢাকার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মালয়েশিয়া সরকার ২০১৮ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে স্থগিতাদেশ আরোপ করার পর পুনরায় কর্মী নিয়োগ শুরু করার লক্ষ্যে উভয় দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে আন্তমন্ত্রণালয় পরামর্শ এবং বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুরের নিরলস পরিশ্রম ও অবিরাম কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের অনুমোদন প্রদান করে। এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ফলে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ,কর্মসংস্থান এবং প্রত্যাবাসনের আদর্শ কাঠামো তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।উভয় দেশের আইন, বিধি, প্রবিধান, জাতীয় নীতি এবং নির্দেশাবলির আলোকে এই সমঝোতা স্মারকে কর্মীদের অধিকার ও মর্যাদাকে অধিকতর সুরক্ষিত করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.